লগইন
লগইন
স্বাস্থ্য

১০ মাসে ৪৫ কেজি ওজন ঝরালেন তিনি, জানুন তাঁর ডায়েট চার্ট

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়ামের শরণাপন্ন হন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক ক্যালরি হিসাব। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ওজন কমানোর এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন সাক্ষী সিং নামের এক ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কঠোর নিয়মের পরিবর্তে সুষম জীবনশৈলী বেছে নিয়ে তিনি মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের আগে সাক্ষীর ওজন ছিল ১১৫ কেজি, যা তিনি সফলভাবে কমিয়ে প্রায় ৭০ কেজিতে নামিয়ে এনেছেন। অর্থাৎ দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রায় ৪৫ কেজির বেশি ওজন ঝরাতে সক্ষম হয়েছেন। নিজের এই রূপান্তরের পেছনের গোপন রহস্য এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার বিস্তারিত বিবরণ তিনি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। ওজন কমানোর এই যাত্রার শুরুতে তাঁর দৈনিক মেইনটেন্যান্স ক্যালরির চাহিদা ছিল প্রায় দুই হাজার আটশ, যা চর্বি গলানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছিল।

চর্বি ঝরানোর প্রধান শর্ত হলো শরীরে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করা, তবে তা না খেয়ে থেকে নয়। সাক্ষী তাঁর প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের মাত্রা ঠিক রেখে ক্যালরির একটি সুনির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখতেন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একঘেয়েমি দূর করতে তিনি বিভিন্ন পদের স্বাস্থ্যকর খাবারের সংযোজন করেছিলেন। তাঁর এই ডায়েট চার্টে ক্যালরির ঘাটতির পাশাপাশি পুষ্টির ভারসাম্যও নিখুঁতভাবে বজায় রাখা হয়েছিল, যা শরীরকে দুর্বল না করে শক্তি জোগাতে সাহায্য করেছে।

সাক্ষীর প্রতিদিনের রুটিন শুরু হতো ব্লু টি, জিরা-জোয়ানের পানি কিংবা লেবু-মধু পানির মাধ্যমে। সকালের নাশতায় তিনি রাখতেন মুগ ডাল বা বেসনের চিলা, স্কাইর দই, উপমা কিংবা ওটস, যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন নিশ্চিত হতো। দুপুরের খাবারে ব্রাউন রাইসের খিচুড়ি, জোয়ারের রুটি, ডাল এবং সালাদের পাশাপাশি তেলহীন পনির বা মুরগির মাংস থাকত। বিকেলের হালকা ক্ষুধায় ফল, ভাজা ছোলা বা বাদাম এবং রাতে স্যুপ কিংবা হালকা রুটি-ডাল খেয়ে তিনি তাঁর দিনের খাবার পর্ব শেষ করতেন।

সার্বিক ডায়েট ব্যবস্থাপনায় সাক্ষী প্রতিদিন মোট চৌদ্দশ থেকে সতেরোশ ক্যালরি গ্রহণ করতেন এবং এর পাশাপাশি অন্তত বারো ঘণ্টার একটি দীর্ঘ উপবাসের বিরতি বজায় রাখতেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে সাময়িক কোনো কঠোর ডায়েট চার্ট দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর হয় না। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে যখন কেউ নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থায়ী অংশ করে নেন, তখনই কেবল কাঙ্ক্ষিত ও স্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব হয়।

Related posts

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যেসব খাবার

JAHID HASAN

হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯

JAHID HASAN

তরুণদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার বাড়ছে, কারণ কী

JAHID HASAN

প্রায় দুই মাসের বদলে মাত্র দুই ঘণ্টায় শনাক্ত হবে মস্তিষ্কের টিউমার

JAHID HASAN

হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯

JAHID HASAN

বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ ১০টি, শীর্ষে হৃদ্‌রোগ

JAHID HASAN

মন্তব্য করুন