লগইন
লগইন

সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা ম্যাক্রোঁর

সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় বিশেষ সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সম্প্রতি ফরাসি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের কথা জানান। বিশ্ব বাণিজ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্যারিস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইয়ানবু বন্দরে সেনা, উন্নত রাডার এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো ওই নির্দিষ্ট স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত রাখা। এর সঙ্গে ফ্রান্সের কোনো নতুন সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের এই বিকল্প জ্বালানি রুটটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও অস্থির হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে মস্কো নানামুখী শত্রুতামূলক তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে বরাবরই ভিত্তিহীন ও ইউরোপের রাশিয়াবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় ড্রোন ও সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফরাসি জনগণকে আশ্বস্ত করে ম্যাক্রোঁ জানান যে, আসন্ন শীত মৌসুমে ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সতর্কতা সংক্রান্ত বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।

মন্তব্য করুন