লগইন
লগইন

জাপানে আশ্রয় চাইলেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য

এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে যাওয়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এই ঘটনা এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রায় আট বছরের দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার কোনো উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাপান সফর করছে। জাপানের ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে, তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা গণমাধ্যমের সামনে ওই দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ক্রীড়ামন্ত্রী ও দেশটির অলিম্পিক কমিটির প্রধান কিম ইল গুকের নেতৃত্বে প্রায় ১৮০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে জাপানে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানে বসবাসরত উত্তর কোরিয়াপন্থী কোরীয় বাসিন্দাদের সংগঠন চোংরিওনের সদস্যরা। কিন্তু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া ওই প্রতিনিধিদলের খেলোয়াড়, কোচ কিংবা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত দুজন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে জাপানেই থেকে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর জাপান সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী কিম ইল গুকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেন। কিন্তু কিম ইল গুক কোনো ধরনের উত্তর না দিয়েই সেখান থেকে সরে যান বলে জাপানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা কিয়োদো সূত্রে প্রকাশ পায়। এদিকে এই দলটি পুরোপুরি রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দলত্যাগের ঘটনা ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা, অতীতে জাপানি নাগরিক অপহরণের ঘটনা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ঐতিহাসিক নানা বিষয় নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও শীতল সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরীয় নাগরিকদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে জাপান সরকার মাঝেমধ্যে কিছুটা নমনীয় বা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এর আগে ১৯৮৩ সালেও এক উত্তর কোরীয় সেনা সদস্য জাহাজে লুকিয়ে জাপানে পালিয়ে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে, চলমান এই ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি অন্য একটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। আসরে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার একটি হকি ম্যাচ শুরুর আগে ভুলবশত উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজিয়ে দেওয়া হয়। এই মারাত্মক ভুুলের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন