লগইন
লগইন
ক্যাম্পাস

ডিসিইউ ভিসির বক্তব্যকে ‘সাহসী’ আখ্যা দিয়ে সমর্থন ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলামের শিক্ষা ক্যাডারদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সমালোচনার জন্ম দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের যে চিন্তা-চেতনা ও গবেষণা (রিসার্চ) থাকা প্রয়োজন, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে তার অভাব রয়েছে।”

তার এই বক্তব্য নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও বক্তব্যটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে লেখেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সঠিক এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাহসী বক্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের কোনো ভিসির এমন বক্তব্য রাখার মতো সাহস আছে—এমন ভিসি নেই বললেই চলে।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রথমত, উনি বুঝতে পেরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগ্যতা কেমন হওয়া উচিত। উনি বুঝতে পেরেছেন, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া মানে শুধু কলেজের নাম পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয় করা কিংবা প্রশাসনের শীর্ষ পদে অধ্যক্ষের পরিবর্তে ভিসি নিয়োগ দেওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে শিক্ষকদের মানের দ্বারা।”

পোস্টে অধ্যাপক মামুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “ইংল্যান্ডে অনেক কলেজ আছে, যেগুলো ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকে। ফ্রান্স ও ইতালিতেও অনেক স্কুল আছে, যেগুলো ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে কথাটি বলেছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কখনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদবিতে কখনো শিক্ষা ক্যাডার, শিক্ষা কর্মকর্তা ইত্যাদি পরিচয় থাকতে পারে না।”

এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শিক্ষকদের চিন্তা ও মানসিকতায় এক ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, “এগুলো থাকলে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হলো, তারা চিন্তা ও মানসিকতায় এক জায়গায় বাধা থাকে। তাদের মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়—কী করা যাবে, কী বলা যাবে ইত্যাদি মন্ত্রণালয় দ্বারা ফিল্টারড হয়।”

পিএইচডি ও মুক্তচিন্তার প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক মামুন প্রশ্ন তোলেন, “এমনকি একজন পিএইচডি করলেও তার নামের আগে ‘ড.’ লাগাতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। তারা কীভাবে মুক্তচিন্তা করবে? আর মুক্তচিন্তা করতে পারা গবেষণা করতে পারার প্রথম শর্ত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চার পরিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মানেই একজন শিক্ষকের জ্ঞানের পরিধি হয়ে যায় আকাশের মতো উন্মুক্ত আর মহাসাগরের মতো গভীর।”

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক যোগ্যতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের পিএইচডি থাকা বাঞ্ছনীয় ও কাঙ্ক্ষিত।”

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে যাদের মানসম্মত পিএইচডি আছে, তাদের একটি ফিল্টারিং পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্যতা সাপেক্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়। এতে কোনো সমস্যা দেখি না।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তিনি বলেন, “কিন্তু একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গেলে তার সঙ্গে আর মন্ত্রণালয়ের কোনো অফিসিয়াল সংযুক্তি থাকতে পারে না। সে আর কর্মকর্তা নয়।”

স্থান:
  • ঢাকা

Related posts

শিক্ষা ক্যাডারের কালো ব্যাজের বিপরীতে ডিসিইউ শিক্ষার্থীদের লাল প্রোফাইল

Mohammad Shamim

মন্তব্য করুন