রাজনীতি ডেস্ক: দেশের পুরোনো ও গতানুগতিক ক্ষমতাকাঠামোর আমূল বিলোপ ঘটিয়ে অংশীদারত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন করে রাষ্ট্র রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। সম্প্রতি রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ প্রতিনিধি সভায় এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, কেবল সরকারের রদবদল ঘটালেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন ক্ষমতার কাঠামোগত বিন্যাস ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক সংস্কার। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের এই এজেন্ডাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখা যাবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে জনগণের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব, কার্যকর অংশগ্রহণ এবং সব পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধান ও শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক যে জনগণ, তা প্রতিটি স্তরে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে না পারলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলটির সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সভায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন যে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল গতানুগতিক কোনো আনুষ্ঠানিক উদযাপনের উপলক্ষ নয়। বরং এটি অতীত সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকা পর্যালোচনা করা, নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের এক দারুণ সুযোগ। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি কোণায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেএসডির সাংগঠনিক শক্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের এই ক্রান্তিলাগ্নে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ প্রতিনিধি সভার শেষ অংশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দল ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এই উপলক্ষে অ্যাডভোকেট কে এম জাবিরকে আহ্বায়ক এবং কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীকে সদস্যসচিব করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা, যারা সংগঠনের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।