লগইন
লগইন

দ্যা ডিসেন্টের ফ্যাক্ট চেক: ট্রাম্পের ছবি কেন প্রায় একইরকম?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রীর একটি ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্ক শুরু হয়। কসোভো, আলবেনিয়া ও রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আগের ছবিগুলোর সঙ্গে এই ছবির মিল খুঁজে পাওয়ার পর অনেকে দাবি করেন যে ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। আবার কেউ কেউ দাবি করেন যে বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের কোনো ফটো কাটআউটের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। এই ধরনের আলোচনা ও নানা জল্পনাকল্পনা ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই আলোচনার মূল কারণ ছিল প্রতিটি ছবিতে ট্রাম্পের দাঁড়ানোর ভঙ্গি, মুখের হাসি এবং ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে ধরার ধরন প্রায় একইরকম থাকা। এমনকি পাশে থাকা বিশ্বনেতারা বদলালেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মুদ্রায় কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই ছবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি ফ্যাক্ট-চেক করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের ছবি নিয়েও অনলাইনে একই ধরনের ব্যঙ্গ ও সংশয় তৈরি হয়েছিল।

বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে এই বিভ্রান্তির যৌক্তিক কারণ উঠে এসেছে। কসোভোর সংবাদমাধ্যম কোহা ও ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের আয়োজিত ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নির্দিষ্ট একটি স্থানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন। এছাড়া সেখানে কেবল হোয়াইট হাউসের নিজস্ব আলোকচিত্রীদের ছবি তোলার অনুমতি ছিল এবং ছবিগুলো প্রসেসিংয়ের পর সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিদলের কাছে পাঠানো হয়। এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কিছুদিন পর বিভিন্ন দেশের নেতাদের ছবি একই সময়ে এবং প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ ভঙ্গিতে প্রকাশিত হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা এবং দ্য ডিসেন্টের মতো প্ল্যাটফর্ম হাইভ মডারেশনের মতো এআই শনাক্তকরণ টুল দিয়ে ছবিগুলো পরীক্ষা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করার কোনো প্রমাণ পায়নি। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে তাদের নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিটি সম্পূর্ণ আসল। যদিও ফেসবুকে ট্রাম্পের কার্ডবোর্ডের প্রতিকৃতির সামনে তারেক রহমানের দাঁড়িয়ে থাকার যে ছবিটি ছড়ানো হয়েছিল, তা পরে এআই দিয়ে তৈরি একটি জালিয়াতি হিসেবে প্রমাণিত হয়। মূলত কূটনৈতিক সংবর্ধনার নির্দিষ্ট প্রোটোকল ও একই ক্যামেরা কোণের কারণে তৈরি হওয়া সাদৃশ্যকে ভুল বুঝে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন