সম্প্রতি শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক ও বিবর্ণ। বড় কোনো সাফল্যের দেখা না পাওয়ায় পুরো আসরজুড়েই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ধরণের স্থবিরতা ও বৈচিত্র্যহীনতা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন দেশের লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই সামগ্রিক হতাশার মাঝে একমাত্র আশার আলো হয়ে এসেছিলেন জিন্নাত আরা। তিনি দুর্দান্ত লড়াই করে দেশের জন্য একটিমাত্র ব্রোঞ্জপদক জয় করতে সক্ষম হন। তার এই ব্যক্তিগত অর্জনটুকু না থাকলে পুরো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ঝুলি সম্পূর্ণ শূন্যই থেকে যেত, যা দেশের ক্রীড়া মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানে টিকে থাকতে হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। অন্য দেশগুলোর তুলনায় সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তৃণমূল পর্তায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। তবেই আগামী দিনে বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারবেন।