দিল্লির এক বাসিন্দাকে ঘিরে চিকিৎসকদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সন্তান লাভে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে এমন একটি বিরল গঠন দেখতে পান, যা সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে একেবারেই অনুপস্থিত থাকে।
চিকিৎসক দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই যুবকের তলপেটে একটি পূর্ণাঙ্গ গর্ভাশয় বা ইউটেরাস অবস্থিত রয়েছে। সাধারণ মানুষের শারীরবৃত্তীয় গঠনের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো মিল নেই বললেই চলে। এ ধরনের শারীরিক জটিলতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত দুর্লভ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি সচরাচর দেখা যায় না।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরাও হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রোগীর শরীরের ভেতরের এই জটিল গঠনটি নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা শুরু করেন তারা। মানবদেহের হরমোন এবং প্রজননতন্ত্রের এমন অস্বাভাবিক আচরণ কেন ঘটে, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জিনগত ত্রুটি কিংবা ভ্রূণের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে হরমোনের অস্বাভাবিকতার কারণে এই ধরনের বিরল শারীরিক অবস্থা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে ওই যুবকের স্বাস্থ্যগত সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।