সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণকারী সরকারের প্রধান হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং দেশের বর্তমান অগ্রগতির বিষয়গুলো সামনে এনে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করেছেন। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়নই এই মুহূর্তে তাদের সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন তিনি। মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের নিজ ভূখণ্ডে সসম্মানে ও নিরাপদভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংকট শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রোহিঙ্গা বিষয়ের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের সুরক্ষায় উন্নত বিশ্বকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের এই কূটনৈতিক অবস্থান দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতিশীলতা আনবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা যায়, তারেক রহমানের এই বক্তব্যে তারই একটি স্পষ্ট রূপরেখা ফুটে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে এই নীতিগুলোর সফল বাস্তবায়নই দেশের কূটনৈতিক সাফল্য নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।