লগইন
লগইন

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ঐতিহাসিক ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে বিশ্ব সংস্থার এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখবেন। এর মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার বিরল এক ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। তাঁর এই ভাষণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশের পাশাপাশি গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে মাতৃভাষা বাংলায় বক্তব্য তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। তার জন্য নির্ধারিত ১৫ মিনিটের এই সময়ে তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন—জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এছাড়া বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষ প্রাধান্য পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের মূল লক্ষ্য হলো নতুন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা। গণতান্ত্রিক রূপান্তর, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের নানা পদক্ষেপও এতে প্রতিফলিত হবে। তাছাড়া জলবায়ু অর্থায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার এটি একটি বড় সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে একাধিকবার এই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন। বর্তমান ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এবারের অংশগ্রহণ দেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সাধারণ পরিষদের ভাষণের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠক ও পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন