লগইন
লগইন

হুতিদের ওপর ব্যাপক হামলা, বড় অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তার নতুন সমীকরণে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর রিয়াদ ও তাদের মিত্ররা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং হুতিদের সম্পূর্ণ কোণঠাসা করতেই এই ব্যাপক অভিযানের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি এই অভিযানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জোরালো সহায়তাও যুক্ত হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিগত চব্বিশ ঘণ্টায় হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে কয়েকশ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব তীব্র হামলায় বিপুল সংখ্যক হুতি যোদ্ধা হতাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের শত শত সামরিক যান ও কৌশলগত সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এর জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে এবং পুরো অঞ্চলটি একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে।

এই লড়াইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকটে পড়েছেন ইয়েমেনের সাধারণ নাগরিকেরা, যাদের লাখ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে ঘরছাড়া হয়েছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশাল সংখ্যক পরিবার তাদের মৌলিক খাদ্যের চাহিদাও মেটাতে পারছে না। সংঘাতের এই চরম মানবিক মূল্যের মধ্যেই রিয়াদ ও তার মিত্ররা তাদের সামরিক কৌশল চূড়ান্ত করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থলপথে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রায় এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাদের মূল লক্ষ্য হবে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা।

হুতিদের বিরুদ্ধে এই সামরিক পদক্ষেপে সৌদি আরবকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী মিত্ররা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে রিয়াদকে সহায়তা করছে, অন্যদিকে পাকিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সমরাস্ত্র পাঠানোর পাশাপাশি সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় সেনা মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তি এবং ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা এই সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের এই বহুমুখী সহায়তা সত্ত্বেও আসন্ন অভিযানের চূড়ান্ত সাফল্য মূলত ইয়েমেনি স্থলবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে।

মন্তব্য করুন