বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই বাণিজ্যিক জোটে অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক বাজারে পণ্য রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই চুক্তির সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোতে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকার ক্ষেত্রে এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
বাণিজ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল রপ্তানি বাড়াতেই সহায়তা করবে না, বরং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল অর্থনৈতিক জোটে অংশীদার হতে পারবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।