লগইন
লগইন

নন-কটন পোশাক রপ্তানিতে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ঐতিহ্যবাহী তুলানির্ভর পণ্যের পাশাপাশি নন-কটন বা তুলাবহির্ভূত পোশাকের রপ্তানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে এই নন-কটন বিভাগ থেকে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বাজারে কৃত্রিম ও অন্যান্য ফাইবারের তৈরি কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের উদ্যোক্তারাও নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছেন। এর ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে বৈচিত্র্য আসছে এবং নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচিত নয় মাসে দেশের মোট পোশাক রপ্তানি থেকে অর্জিত ২৯.৯১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় ৯.১৭ বিলিয়ন ডলারই এসেছে নন-কটন পণ্য রপ্তানি করে, যা মোট আয়ের ৩০.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, বাকি প্রায় ৬৯.৩ শতাংশ বা ২০.৭৫ বিলিয়ন ডলারের অবদান রয়েছে প্রচলিত তুলাভিত্তিক পোশাকের। মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বছরের শুরুতে তুলাবহির্ভূত পণ্যের অংশ কিছুটা কম থাকলেও পরবর্তীতে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা পরবর্তী মাসগুলোতে এই খাতের প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে চোখে পড়ে এবং আগস্ট মাসে নন-কটনের হিস্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নন-কটনের এই অগ্রযাত্রা মূলত নতুন পণ্যের সফল উৎপাদনের ফল, কোনোভাবেই তুলাজাত পণ্যের পতনজনিত কারণে নয়। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল উল্লেখ করেছেন যে, সারা বছরই তুলাভিত্তিক পোশাকের রপ্তানি একটি স্থিতিশীল সীমার মধ্যে বজায় ছিল। তবে বৈশ্বিক বাজারের সামগ্রিক প্রবণতার তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেকটাই কটননির্ভর রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে নন-কটনের ব্যাপক আধিপত্য থাকলেও বাংলাদেশ এখনো প্রথাগত পণ্যের ওপর বেশি নির্ভর করছে, যেখানে পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চীন বা ভিয়েতনামের চেয়ে ব্যবধান রয়ে গেছে।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে নন-কটন পোশাকের যে বিশাল বাজার রয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান হিস্যা সামান্যই, যা মূলত ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই বিশেষায়িত ফাইবারের পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর কারণে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সরকারের তরফ থেকে নীতিগত সহায়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন