লগইন
লগইন

ছয় বছর ধরে ভারতের কারাগারে বন্দী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পুরস্কার পেলেন মুসলিম যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে প্রায় ছয় বছর ধরে কারাবন্দী থাকা সাবেক ছাত্রনেতা উমর খালিদ মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছেন। আয়ারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীদের সম্মান জানাতে এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে। ২০২৬ সালের এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ী হিসেবে উমর খালিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যেই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে কারাবন্দी রাখা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন সময়ে তাকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবুও বহু মানুষের কাছে তিনি সাহসের প্রতীক এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর এই আইনের নেতিবাচক প্রভাব ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

উমর খালিদ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল কর্তৃক গ্রেপ্তার হন এবং তার বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন তথা ইউএপিএ এবং রাষ্ট্রদ্রোহসহ প্রায় ১৮টি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালজুড়ে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতিসংঘের নির্বিচার আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তার এই দীর্ঘ ও বিচারহীন কারাবাস নিয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ী মানবাধিকারকর্মীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। কারাবন্দী থাকার কারণে উমর খালিদ নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার বাবা সৈয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস। এর আগে বারবার তার জামিনের আবেদন আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও দিল্লি হাইকোর্ট তার জামিন নামঞ্জুর করেছে। নানা প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক এই পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা তার সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মন্তব্য করুন