লগইন
লগইন

ডিম সিন্ডিকেটে এআই (AI) বিপ্লব

এলাকার কাঁচাবাজারের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে নিজের খেয়ালখুশিমতো পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে মান্ধাতা আমলের সিন্ডিকেট পদ্ধতি বদলে ফেলার চিন্তা করেন তিনি। ঠিক সেই সময়ে তাঁর টিকটকার ভাগনে এসে তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিনব পরামর্শ দেয়। প্রযুক্তির এই নতুন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে বাজারের প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন ওই ব্যবসায়ী।

ভাগনের সহায়তায় চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে বাজার দখলের বিভিন্ন কৌশল জেনে নেন সেই মুটে ব্যবসায়ী। এআই-এর বুদ্ধি অনুযায়ী প্রথমে সাধারণ ফার্মের ডিমে বিশেষ গোল্ডেন স্টিকার লাগিয়ে সেগুলোকে ভিআইপি পণ্য হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি। প্রথম ধাপে এই অভিনব রিব্র্যান্ডিং সফল হওয়ায় লাভের মুখ দেখেন এবং সাহসহী আরও বেড়ে যায়। এরপর তিনি কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে এক লাখ ডিম অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

চ্যাটজিপিটির নির্দেশনা মেনে রাতের আঁধারে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ডিম গোপনে অন্যত্র সরানোর সময় বিপত্তি ঘটে। ভাঙাচোরা মহাসড়কে অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভেতরের সমস্ত ডিম ভেঙে একাকার হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হাইওয়ের ওপর ডিমের তরল অংশ ছড়িয়ে পড়ে এক বিশাল হলুদ নদীর মতো অবস্থার সৃষ্টি করে। চালক ও তার ভাগনে এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েন এবং কী করবেন তা বুঝতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

ভাঙা ডিম দিয়ে রাস্তার ধারের পথচারী বা কুকুরদের জন্য অমলেট বিক্রির অদ্ভুত পরামর্শ দিয়ে এআই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়ে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি ও অবৈধভাবে পণ্য মজুত করার অপরাধে ব্যবসায়ীকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেন। সমস্ত ঘটনা শেষে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা হারিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের পুরনো ও সনাতন পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্তে ফিরে আসেন।

মন্তব্য করুন