লগইন
লগইন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ হেফাজত থেকে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক, জানালেন কৃতজ্ঞতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশের হেফাজত থেকে সসম্মানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করার জেরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এরপর বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টিগোচর হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে তাঁকে রাতে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে, যখন ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষক লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে পাঠদানের সময় জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন ওই শিক্ষক। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, ক্লাসে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।

শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন জানান, ক্লাসে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে রিডিং পড়তে না পারায় তাদের উৎসাহিত করতেই তিনি ওই প্রসঙ্গ টেনেছিলেন এবং তাঁর কোনো কটূক্তি করার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ক্লাসে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রসঙ্গ টানা ভুল ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, থানা হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশ তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ও মানবিক আচরণ করেছে এবং কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি। পরবর্তীতে সরকারপ্রধানের নির্দেশে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে গভীর রাতে সসম্মানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই সুস্থ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কারও মতের সঙ্গে অমিল থাকতে পারে, কিন্তু ভিন্নমতের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো জরুরি। শিক্ষকের বাড়িতে ফেরার ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং শিক্ষক প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন