লগইন
লগইন
অপরাধ

আশ্রয়ের কথা বলে সন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের মূল হোতা মো. সোহরাব হোসেনকে একটি বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত সোহরাব নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার ভাসাটি গ্রামের মৃত আদম আলীর সন্তান এবং পেশায় তিনি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একজন পান বিক্রেতা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং পুলিশ তাকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে শ্রীপুরের ব্যস্ততম মাওনা চৌরাস্তা এলাকার উড়ালসেতুর নিচ থেকে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সোহরাব। রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে এবং নানা আশ্বাসের কথা বলে ওই নারীকে তার দুই শিশুসন্তানের সামনে থেকে একটি নিরিবিল স্থানে নিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে সেখানেই ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় ওই নারীর অসহায় শিশুরা চোখের সামনেই মায়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন হতে দেখে, যা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত সোহরাব এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেন। ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে গেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি এলাকার র‍্যালির মোড় সংলগ্ন স্থানে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সফলভাবে মো. সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং তাকে শ্রীপুর থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ধরনের নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Related posts

চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে

JAHID HASAN

কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে শৌচাগারের কথা বলে পালালেন পিচ্চি রাজা

JAHID HASAN

খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

JAHID HASAN

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক

JAHID HASAN

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

JAHID HASAN

কুমিল্লায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানার পুলিশ, আটক ৬২৪

JAHID HASAN

মন্তব্য করুন