লগইন
লগইন

৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের হকলি এলাকায় একটি বাড়ি সংস্কারের সময় প্রায় চার দশকেরও বেশি পুরনো একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের একটি গোপন ও ফাঁকা স্থান থেকে চিঠিটি খুঁজে পান এক নির্মাণকর্মী। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সেখানে লুকিয়ে থাকা এই চিঠিটি ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর লেখা, যা সে ভবিষ্যতের কোনো মানুষের উদ্দেশ্যে রেখে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চমৎকার ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল হারউডের কৌতূহল বেড়ে যায় এবং তিনি এর আসল লেখককে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩৬ বছর বয়সী এই দাতব্যকর্মী দেখতে পান যে, একটি শিশুর বয়সের তুলনায় চিঠিটির হাতের লেখা অত্যন্ত পরিপাটি ও সুন্দর। এরপর তিনি স্থানীয় একটি ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপে চিঠিটির ছবিসহ একটি পোস্ট করেন এবং লেখককে শনাক্ত করার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তির কারণে পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় লোকজন চিঠিটির আসল লেখককে খুঁজে বের করতে সক্ষম হন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট লেখা এই চিঠির লেখক হলেন র‍্যাচেল মাইলস, যিনি বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সে বাকিংহামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। আশির দশকে জনপ্রিয় ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ব্লু পিটার’-এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে টাইম ক্যাপসুল তৈরির যে ঝোঁক ছিল, তারই অংশ হিসেবে তিনি এটি করেছিলেন। সেসময় বাড়ির সিঁড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গাটি দেখতে পেয়ে ছোট্ট র‍্যাচেলের মনে ভবিষ্যতের কারও জন্য চিঠি লুকিয়ে রাখার অভিনব ধারণাটি আসে। চিঠিতে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে কেবল তাঁর তৎকালীন পোষা বিড়াল ‘কিজি’র কথা উল্লেখ করেছিলেন, যে কিনা সেসময় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিল।

চিঠিটি বর্তমান মালিক মিশেলের হাতে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, কারণ চিঠিটি লেখার সময় তিনি পৃথিবীতেই আসেননি। পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেয়ে শিক্ষক র‍্যাচেল মাইলসও অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং এর সুবাদে অনেক পুরোনো মানুষের সঙ্গে তাঁর আবার যোগাযোগ হয়েছে। বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল ও চিঠিটির লেখক র‍্যাচেলের জীবনের মধ্যে অদ্ভুত কিছু মিলও রয়েছে, যার মধ্যে উভয়েরই বিড়াল পোষার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

মন্তব্য করুন