যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিউবা কখনোই কোনো ধরনের হুমকি নয় বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সব ধরনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিরসন করা সম্ভব। হাভানা সবসময় সার্বভৌম সমতার নীতিতে বিশ্বাস করে এবং যেকোনো গঠনমূলক সংলাপে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের তাগিদ দিয়ে রদ্রিগেজ জানান, অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার শর্তে এবং কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বসতে চায় কিউবা। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে একে দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কিউবার সাধারণ পরিবারগুলোকে চরম অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ও সংকটের মধ্যে ফেলতে পরিকল্পিতভাবেই এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতির মূল উদ্দেশ্য দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মানবিক সংকট তৈরি করা বলে অভিযোগ করেন ব্রুনো রদ্রিগেজ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন এই কঠোর নীতিগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।