গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে গৃহস্থের গরু চুরি করে জবাই করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন আগে রাতের কোনো এক সময়ে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের পশ্চিম মাস্তা এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষকের দাবি, প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ওই গাভিটি চুরি করার পর পাশের গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্নার জন্য জবাই করা হয়। ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গরুটি উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম মাস্তা গ্রামের শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সন্ধ্যায় তাঁর গোয়ালঘরে একটি কালো রঙের ক্রস জাতের গাভি বেঁধে রেখেছিলেন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা রয়েছে এবং গোয়ালঘরটি খালি। এরপর শনিবার সকালে তিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে আশপাশে গরুর সন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে তারা সেই সূত্র ধরে সামনে এগোতে থাকেন।
পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তারা পার্শ্ববর্তী বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, একটি গরুর মাংস কাটা হচ্ছে এবং বাড়ির লোকজন রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়ে থাকা চামড়া ও মাথা দেখে শহিদুল ইসলাম সেটি নিজের চুরি যাওয়া গরু বলে নিশ্চিত করেন। গরুর মালিক ও তাঁর ভাতিজা আনারুল প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারুলের ওপর আক্রমণ চালায়, যা প্রতিহত করতে গিয়ে তিনি ডান হাতে গুরুতর জখম হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং ঘটনার দিন তাঁর বাড়িতে বউভাতের বড় আয়োজন চলছিল। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মাংসের জোগান দিতেই রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে গরুটি চুরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রফিকুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা জব্দ করে। আহত আনারুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে চুরির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মামলা দায়েরের কাজ চলছে। এ ছাড়া এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।