লগইন
লগইন

সৌদি মিত্ররা একজোট, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তীব্র আকার ধারণ করায় রিয়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার মিত্রদেশগুলো। সম্প্রতি হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আকাশপথে বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করলেও দেশটির প্রধান তেল বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সার্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জোরালো বার্তা দিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র রূপরেখা অনুযায়ী যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী যৌথ সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে। চুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তুরস্কের সেনাপ্রধান সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করেছেন। তবে চুক্তিটি এখনো তুর্কি পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হওয়ায় আঙ্কারার পক্ষ থেকে আপাতত মূলত দ্বিপক্ষীয় ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু তেল বন্দর রক্ষায় সেনা ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, বন্দরটির সুরক্ষায় সেনাসদস্য এবং রাডার সিস্টেম মোতায়েন করা হলেও সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা তাদের নেই। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বর্তমানে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে ইয়ানবু বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, আর তাই এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও এই সংঘাত নিরসনে নানা ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনে এই প্রতিরক্ষা জোটে ইরানসহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যেই এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন