মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় মো. রাব্বি মণ্ডল (৩২) নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে এবং এলাকায় বালু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাব্বি মণ্ডলের সঙ্গে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের (২৭) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাত থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এই ক্ষোভ ও বিরোধের জের ধরেই ভোররাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বির গলায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই দম্পতির সাত বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং অভিযুক্ত ফারজানা বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন সকালে ফারজানার বাবা ফয়জার মুঠোফোনে রাব্বির পরিবারকে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হওয়ার কথা জানান। এই সংবাদ পেয়ে নিহতের বাবা দ্রুত ছেলের ঘরে গিয়ে বিছানার ওপর রাব্বির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার শ্রীপুরের আমতৈল গ্রামে নিজের বাবার বাড়িতে পালিয়ে যান। পরে তার বাবার মাধ্যমেই বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা নিহতের ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত গৃহবধূ ফারজানাকে এরই মধ্যে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আটক ফারজানা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।