লগইন
লগইন

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’হলেন জাইমা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জাইমা রহমান। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি এই আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায়ও সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার এই নতুন অভিযাত্রা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জাইমা রহমান বর্তমানে আইন কর্মকর্তা বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সভাপতির কার্যালয়ে তিনি প্রধানত বিভিন্ন আইনি বিষয় দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় হলো। বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তরুণ এই আইনবিদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খলিলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দপ্তরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৯টি দেশের প্রায় ৪০ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবী বিভিন্ন নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বৈচিত্র্যময় দলে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, জাপান ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সেনেগালের অভিজ্ঞ কূটনীতিক জিবরিল দিয়ালু এই দপ্তরের প্রধান বা শেফ দ্য ক্যাবিনেটের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশি কূটনীতিক আবদুল আলিম এই কার্যালয়ের উপপ্রধান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

খলিলুর রহমানের এই বিশেষ কার্যালয়ে বাংলাদেশের আরও বেশ কয়েকজন মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী এবং মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো–বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই শক্তিশালী উপস্থিতি দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তিরই এক অভূতপূর্ব বহিঃপ্রকাশ।

মন্তব্য করুন