লগইন
লগইন
অপরাধ

ফরিদপুর মেডিকেলে বাক্সবন্দী ২৩ কোটি টাকার যন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও গায়েব

অপরাধ ডেস্ক: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অলস ও বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি বিশেষ দল হাসপাতালটিতে টানা অভিযান চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। সরকারি অর্থের এই অপচয় এবং চরম অবহেলার বিষয়টি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মূলত সেবার মান উন্নত করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় আধুনিক যন্ত্রপাতির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালটির সার্বিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা খরচ করে একটি লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর যন্ত্র কেনা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকায় বহুমূল্যের এই যন্ত্রটি আজও বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগের জন্য প্রায় পৌনে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও সেটি চালু করা হয়নি। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কোনো ধরনের ব্যবহার ছাড়াই এই দুটি যন্ত্রের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়া এ ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পেছনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে।

শুধু যন্ত্রপাতি কেনাকাটাসংক্রান্ত দুর্নীতি নয়, হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী বা এমএসআর ক্রয়েও ব্যাপক গরমিল দেখতে পেয়েছে দুদক দল। অভিযানে গুদামে সংরক্ষিত একটি বিশেষ ওষুধের শত শত বোতলের ঘাটতি পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। এছাড়া গত এক মাস ধরে হাসপাতালের সচল সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভাড়ার কোনো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে প্রমাণ মিলেছে। হাসপাতালে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তিনটি নিয়মিত চালু থাকা সত্ত্বেও ভাড়ার টাকা জমা না হওয়ায় বড় ধরনের হরিলুটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানের শেষ পর্যায়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ জানান, তারা হাসপাতালের প্রতিটি রেকর্ডপত্র ও ফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছেন। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রগুলো অচল থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা না হওয়ার অভিযোগ আংশিক অস্বীকার করলেও এমএসআর কেনাকাটার অনিয়মের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু।

Related posts

দুই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সাবেক সেনাদের প্ল্যাটফর্ম; দেবাশীষ-গুলশান আরাকে গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী

JAHID HASAN

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

JAHID HASAN

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআইয়ের বক্তব্য ভাইরাল

JAHID HASAN

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে তিন দফায় আটক ১২৯৪

JAHID HASAN

জুতায় ১৬ কোটি টাকার সোনা, বিমান বাংলাদেশের দুই কর্মী রিমান্ডে

JAHID HASAN

আবাসিক হোটেলের টয়লেটে চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’

JAHID HASAN

মন্তব্য করুন