লগইন
লগইন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে: এমপি মিলন

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ঢাকা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের সার্বিক সম্প্রীতি রক্ষায় এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন। ঢাকা-১২ আসনের উন্নয়ন ও গণসংযোগ সমন্বয়ক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যাতে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধ করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা কমিটির মধ্যে নিবিড় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা পূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী যেকোনো উসকানি, গুজব কিংবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধান অতিথি বলেন যে, বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের অপরাধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অপরাধীর রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক পরিচয় না দেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এ দেশের কোনো নাগরিক যেন কখনো বৈষম্য, ভীতি কিংবা অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংসদ সদস্য বলেন যে, তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে এবং সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও প্রীতি নিয়ে বসবাস করবেন। ঢাকা-১২ আসনের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সার্বিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি, সমস্য এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলে সংসদ সদস্য সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

মন্তব্য করুন