রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে পুরোনো রাজনৈতিক ধারার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা করা হলেও বর্তমানে ফের সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বা ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি সম্প্রতি ঢাকা কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত এক নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এই শঙ্কার কথা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি। এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর ভিপি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান যে ফ্যাসিবাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিচয় থাকে না, বরং যে দল বা ব্যক্তিই ফ্যাসিবাদী আচরণ করবে তার বিরুদ্ধেই ছাত্রসমাজকে সোচ্চার হতে হবে। জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দেওয়া। ক্যাম্পাসে অতীতে চালু থাকা গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি কিংবা দখলদারত্বের রাজনীতি কোনোভাবেই আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মেধা, যোগ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কল্যাণভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অতীতের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, গত কয়েক দশকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনেক নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ ধ্বংসের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং নানা ধরনের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে এসেও জ্বালানি খাতের সংকট, গণভোটের জনরায় উপেক্ষিত হওয়া এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সায়েন্স ল্যাব এলাকা ছাড়াও রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার ও শাহবাগে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাহসী ভূমিকা পালন করে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিল। শহীদ উসমান হাদি ও আবরার ফাহাদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সহশিক্ষা কার্যক্রম, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি ভাষা শেখার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।