সাতক্ষীরায় এক সাধারণ চা বিক্রেতাকে দুর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জাকারিয়া খান নামের এক তরুণ কলেজছাত্র। সম্প্রতি রাতে শহরের পশু হাসপাতাল গেট এলাকা অত্যন্ত মর্মান্তিক এই সহিংসতার ঘটনাটি ঘটে। নিহত ১৯ বছর বয়সী জাকারিয়া চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি স্থানীয় পৌরসভার দক্ষিণ কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফুরের সন্তান ছিলেন। এই আকস্মিক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন জাকারিয়া। এমন সময় দোকানদারের সঙ্গে চা দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন অচেনা যুবকের তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরীহ চা বিক্রেতাকে রক্ষা করতে এবং ঝামেলা মেটাতে জাকারিয়া নিজে এগিয়ে যান। কিন্তু দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক হামলাকারী অতর্কিতভাবে তাঁর বুক ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন জাকারিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে হাসপাতালেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং তাঁরা অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাতক্ষীরা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে।