দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুসানে একটি সরু খালে একটি হাঙর আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শহরের একটি অভ্যন্তরীণ জলাধারের পাশে জলজ এই প্রাণীটিকে প্রথম সাঁতার কাটতে দেখা যায়। সমুদ্র থেকে পথ হারিয়ে কোনোভাবে এটি শহা অঞ্চলের এই জলাশয়ে চলে আসে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপকূলীয় পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক প্রাণীদের লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আটকে পড়া এই জলজ প্রাণীটিকে স্থানীয়রা অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে ‘বুকাং-ই’ নামে ডাকতে শুরু করেন। বুসানের নর্থ পোর্ট বা উত্তর বন্দরের নামের সঙ্গে মিল রেখেই এমন অভিনব ডাকনাম দেওয়া হয়েছে প্রাণীটির। সাধারণত সমুদ্রের গভীর জলে হাঙরের দেখা মিললেও শহরের একেবারে মাঝখানে এমন একটি হিংস্র ও বড় প্রাণী চলে আসার খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় খবরের সুবাদে এই অদ্ভুত ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
শহরের খালে হাঙর আটকা পড়ার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে মানুষের ঢল নামে। প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অতিরিক্ত জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ বেগ পেতে হয়। উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে ওই এলাকার স্বাভাবিক চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হয়, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এদিকে বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক জীব বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উন্মুক্ত সমুদ্রের বদলে সংকীর্ণ খালে আটকে থাকায় হাঙরটির জীবন বিপন্ন হতে পারে। প্রাণীটিকে সুস্থভাবে উদ্ধার করে পুনরায় গভীর সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিবেশবাদীরাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাণীটির নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।