কুমিল্লার হোমনা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর শাখা নদীতে মর্মান্তিক ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মারিখালী নদের রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করার ফলে এই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে একই পরিবারের সন্তানসহ অন্যান্যদের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাবা হেলাল উদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ও তার পরের দিনগুলোতে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদী থেকে একই পরিবারের তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তারা হলেন হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার এবং দুই ছেলে সজীব হোসেন ও সামিন হোসেন। এছাড়া দুর্ঘটনার দিনই রাশিদা বেগম নামের আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। হতাহত এই ব্যক্তিরা সবাই কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জলপথে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।
নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা থেকে ১৩ জন আত্মীয়স্বজন একটি ট্রলারে চড়ে সোনারগাঁয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ওই ট্রলারে যাত্রীদের পাশাপাশি দুটি গরু ও একটি খাসিও তোলা হয়েছিল। সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই বৈরী আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। নদীর বড় ঢেউয়ের মুখে পড়ে ট্রলারের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা একটি সিমেন্ট কারখানার ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বোঝাই এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ও গবাদিপশু তোলার কারণেই মূলত এই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে নৌপথে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি দুর্ঘটনাজনিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।