সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থেকে মুক্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত রোববার সকাল থেকেই কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষসহ অন্তত চৌদ্দজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করে তোলেন।
প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল—এই তিনটি বিভাগে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে তাঁদের একাডেমিক ও পেশাগত উন্নয়নে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার স্থায়ী সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও অবরুদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘ সময় পার করেন। চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার বিকেলে কলেজটির তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে বদলি করে নতুন একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বদলির এই আদেশ আসার পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামেনি এবং অবরুদ্ধ শিক্ষকরা ভবনটির ভেতরেই আটকা পড়ে থাকেন।
ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান যে তাঁরা সকাল থেকেই প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে বন্দি অবস্থায় আছেন। কর্তৃপক্ষের উচ্চ মহলে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বিকেলে নিজের বদলির প্রজ্ঞাপনটি দেখলেও ঠিক কী কারণে তাঁকে এই সময়ে বদলি করা হলো, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার কিছু জানেন না বলে জানান।