যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পার না হতেই একই মঞ্চ থেকে তার কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া এই দুই নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনের পথ আরও বেশি জটিল ও ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে একই স্থানে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প তেহরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো आक्रामक মন্তব্য করেছিলেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় নিহত বেশ কিছু শিশুর ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল ওই দৃশ্য প্রদর্শনের পরপরই সভাস্থলে উপস্থিত একমাত্র মার্কিন কূটনীতিক প্রতিবাদস্বরূপ ওয়াকআউট করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল মিলে অযৌক্তিকভাবে এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, তবে তেহরান কখনো মাথা নত করবে না এবং শেষ পর্যন্ত নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়ে যাবে।
এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ফলপ্রসূ আলোচনা বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের এই সদিচ্ছার বিষয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করে জানান যে অতীতেও আলোচনার টেবিলে বসার ছলে তেহরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ফলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই এবং ওয়াশিংটন সামরিক আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরান প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নীতিতে অটল থাকবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে এই সংকট নিরসনে তেহরানেরও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে দুই পরাশক্তির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের এমন অনমনীয় অবস্থানের ফলে এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন সমাপ্তির দিকে যাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।