লগইন
লগইন
স্বাস্থ্য

ক্র্যাশ প্রোগ্রামে কমেছে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, ঝুঁকি কাটেনি সীতাকুণ্ডে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে যেখানে দৈনিক গড়ে তেরোজন করে রোগী ভর্তি হতেন, পরবর্তীতে সেই হার কিছুটা কমে আসে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি বিপদমুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বরের প্রথম পঁচিশ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে যত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার পরের সময়টিতে সেই দৈনিক গড় কিছুটা কমেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এর আগে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় পুরো সীতাকুণ্ড উপজেলাকে বিশেষ হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছিল জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তখন একাধিক এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।

এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলোতে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং চালানো হয়। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে নিজে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এলাকাগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর আর পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক জানিয়েছেন, বাসিন্দাদের মাঝ থেকে আতঙ্ক অনেকটাই দূর হয়েছে এবং ওয়ার্ডগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখতে নারাজ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবের পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে ভিন্নতা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতির জন্য নতুন ওষুধের ছিটানোর পাশাপাশি রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Related posts

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৩২ জন

JAHID HASAN

কিশোরগঞ্জে ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ হাজার, ডেঙ্গুতে ১,৮০০; মৃত্যু ৩

JAHID HASAN

ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯০২

JAHID HASAN

ডায়াবেটিস হলে ফল খাবেন, না খাবেন না

JAHID HASAN

ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়তে পারে?

JAHID HASAN

চুইংগাম চিবানো ভালো না মন্দ

JAHID HASAN

মন্তব্য করুন