লগইন
লগইন

ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ। সংস্থার প্রশাসনিক ইতিহাসে এই প্রথমবার জেলার বিপুলসংখ্যক পূজামণ্ডপের জন্য সরাসরি অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে, যা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর জেলার মোট এক হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপকে প্রায় সত্তর লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার পূজারিদেরও এই অনুদানের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিশাল অনুদানের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর মণ্ডপগুলোর জন্য। জেলার পাঁচটি উপজেলার মোট আটশ ঊনসত্তরটি পূজামণ্ডপের অনুকূলে প্রায় চুয়াল্লিশ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যার মধ্যে সাভার, ধামরাই, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ এবং দোহার উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপ এই সহায়তার সুফল পেয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতেও যাতে উৎসব উদযাপনে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে সুষমভাবে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর এলাকার প্রায় দেড়শটি পূজামণ্ডপের জন্য ছাব্বিশ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

সহায়তা বিতরণের পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছে জেলা পরিষদ। কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রধান কিংবা দায়িত্বশীলদের হাতে অনুদানের চেক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় মন্দিরে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তারা আয়োজকদের হাতে এসব চেক তুলে দেন। নবাবগঞ্জ, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ এবং সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই চেক বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ জানান, ভবিষ্যতে মহানগরের যেসব মণ্ডপ এই অনুদানের আওতার বাইরে রয়েছে, সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই স্লোগানকে ধারণ করে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিষদের এই মহতী পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন