লগইন
লগইন

নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক: নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট বা আরএমএমআরইউ-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং সোনার মানুষ সম্মিলন উপলক্ষੇ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি এমন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রবাসী ও প্রত্যাগত কর্মীরা দেশের সার্বিক জাতীয় উন্নয়নে সমান অংশীদার হিসেবে নিজেদের ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সরকার ও রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে দেশের সকল অংশীজনকে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি ১ ডলারের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অমানসিক শ্রম, ত্যাগ এবং হাজারো মানুষের সোনালী স্বপ্ন। তাই তাদের যথাযথ অধিকার রক্ষা এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্জনকে জাতীয় উৎপাদনে কাজে লাগানো দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত ও নৈতিক দায়িত্ব।

প্রবাসীদের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে আমাদের কর্মীরা প্রায়শই অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বা প্রতিশ্রুত কাজের বাইরে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। তিনি মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের নিদারুণ কষ্টের কথা উল্লেখ করে জানান যে, তারা নিজেদের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠান বলেই আজ আমাদের অর্থনীতি সচল রয়েছে। পোশাক খাতের পাশাপাশি রেমিট্যান্স খাতই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিবাসন প্রক্রিয়ার নানা অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি জানান, অতীতে বিনা খরচে শ্রমিক প্রেরণের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সিন্ডিকেট ও দালালদের কারণে সাধারণ শ্রমিকদের লাখ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হতে হয়। এই প্রবাসীর ভোগান্তি লাঘবে উপজেলা পর্যায়ে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং প্রবাসী কার্ড চালুর মতো সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর কথা তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে প্রবাসীদের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং অভিবাসনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য করুন