লগইন
লগইন

সিটি করপোরেশন করার উদ্যোগ: বাড়ছে কক্সবাজারের পরিধি

জাতীয় ডেস্ক: দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে রামু ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে প্রায় ১৬৯ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বৃহত্তর নগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত প্রায় পৌনে ১১ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে বলে প্রশাসনিক নথিপত্র থেকে জানা যায়। দ্রুত বর্ধমান এই জনপদের সার্বিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত এমন যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন সীমানার মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল, ঝিলংজা ও পিএমখালী ইউনিয়ন এবং রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের নির্দিষ্ট কিছু মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত কয়েক দশকে পর্যটন শিল্পের অভূতপূর্ব বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন আবাসন ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে ওঠার ফলে শহরের পরিধি ঐতিহ্যবাহী সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শহরের আশপাশের ইউনিয়নগুলোতেও দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠছে এবং প্রশাসনিকভাবে পুরো অঞ্চলটি একটি অবিচ্ছেদ্য নগরে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত কাঠামোর কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ এই বিশাল এলাকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আসছিল।

স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জানান, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের একটি টেকসই ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতেই বর্তমান সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা। কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করতে পারলে সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও জলাভূমির পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

নতুন এই প্রশাসনিক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, জলাবদ্ধতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ এবং হোটেল-মোটেল জোনের কার্যক্রমে আধুনিক সমন্বয় আনার মাধ্যমে পর্যটন অর্থনীতির আরও বড় পরিসরে বিস্তার ঘটানো সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে খুব দ্রুতই পর্যটন শহরটি দেশের চতুর্দশ সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন