অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর পর পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের জেটিতে সরাসরি নোঙর করেছে চীনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ফান ঝৌ-৬। বন্দরের নিজস্ব কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম বহনকারী এই জাহাজটি জেটিতে ভিড়ে। এর আগে ২০২৩ সালে এমভি জেইন এবং এমভি ডা হং-১৬ নামক কার্গো জাহাজগুলো এই টার্মিনালে সরাসরি পণ্য খালাস করেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় কোনো কার্গো জাহাজ সরাসরি টার্মিনালে ভেড়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে আমদানির পর জাহাজটিতে থাকা আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো নিরাপদে খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। এই চালানে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি অত্যাধুনিক এসটিএস ক্রেন, ৪০ টন ক্ষমতার দুটি আরটিজি ক্রেন এবং একই ক্ষমতার একটি শক্তিশালী মোবাইল হারবার ক্রেন বা এমএইচসি। এসব ভারী যন্ত্রপাতি বন্দরে পৌঁছানোর ফলে সামগ্রিক কার্যক্রমে এক বিশাল আধুনিকায়ন ঘটল, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
নতুন যুক্ত হওয়া এসব সরঞ্জামের সাহায্যে বন্দরের পণ্য খালাস ও লোডিং প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে খুব সহজেই বড় মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার ওঠানো ও নামানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, আরটিজি ক্রেন ইয়ার্ডের ভেতরে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরে এবং মোবাইল হারবার ক্রেন বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্য ও কনটেইনার দ্রুত খালাসে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম এই বিষয়ে জানান, আধুনিক এসব ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার ফলে বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা আরও বৃদ্ধি করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় বড় মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এই অগ্রগতির ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।