লগইন
লগইন
আইন আদালত

সংবিধান সংশোধন: রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ থাকুক

আইন-আদালত ডেস্ক: রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করার তাগিদ অনুভব করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি দেশের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং সাংবিধানিক রূপরেখা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ক্ষমতার সঠিক বিভাজন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও অবস্থান সংবিধানে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করেছে। বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপটিকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে বিচারকদের বদলি, পদায়ন ও শৃঙ্খলা বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকারের নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকায় নানা জটিলতার সৃষ্টি হতো। এই নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবি পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কেবল সচিবালয় গঠন করলেই বিচার বিভাগের সার্বিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংবিধানের মূল কাঠামোতে রাষ্ট্রের সংজ্ঞার ভেতরেই বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও ক্ষমতার পরিধি জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা সরকারের পরিবর্তনের কারণে বিচার বিভাগের ওপর কোনো ধরনের অনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার চিরতরে সুরক্ষিত করতে এই সাংবিধানিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ—এই তিন অঙ্গের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ক্ষমতার ভারসাম্য অত্যন্ত আবশ্যিক। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে নাগরিকের মৌলিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আসন্ন সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করার পক্ষে জোরালো মত দিচ্ছেন আইনজীবীরা। সার্বিক এই সংস্কার দেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Related posts

খালাসের পরও কনডেম সেলে ৮ বছর: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

JAHID HASAN

বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে আওয়ামীপন্থী তিন আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ

JAHID HASAN

আয়াস, মারজিয়াদের বিরুদ্ধে কোন ধারায় কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে

JAHID HASAN

জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন

JAHID HASAN

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

JAHID HASAN

জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় গতবার প্রিলিতেও টিকতে পারেননি, এবার হলেন প্রথম

JAHID HASAN

মন্তব্য করুন