দেশে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা সামান্য বাড়লেও তা এখনও অত্যন্ত অপ্রতুল পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জাতীয় জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ নাগরিক এই আইনটি সম্পর্কে জানেন। অথচ এর আগে ২০১৯ সালে এই সচেতনতার হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে আইনটি নিয়ে মানুষের জানাশোনা কিছুটা বাড়লেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এবং তথ্য অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে তিন হাজার ২০০ সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণে এই জরিপ সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার এবং তথ্য কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করে এই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, যারা আইনটি সম্পর্কে জানেন তাদের মধ্যেও তথ্য চেয়ে আবেদন করার প্রবণতা খুবই কম। সচেতন নাগরিকদের মাত্র সাড়ে চার শতাংশের বেশি মানুষ কখনো তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তথ্যের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে নাগরিকদের ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে বর্তমান বা ভবিষ্যতে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে।
আইনটির সফল বাস্তবায়নে বড় বাধা হলো সঠিক ধারণার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে ধারণা থাকলেও আবেদন করার নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রক্রিয়া অনেকেরই অজানা। এছাড়া তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের অনেকেরই এই আইন ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অন্যদিকে, যারা তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন তাদের বড় একটি অংশ নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।