লগইন
লগইন

জার্মানিতে ভক্সওয়াগনের কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর

জার্মানির একটি গাড়ি তৈরির কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তর করার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল দ্য লেফট পার্টি। সম্প্রতি আনাদোলুর প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, ভক্সওয়াগনের ওসনাব্রুক কারখানাটি বিক্রি করে সেখানে সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আর এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ময়দান ও জনপরিসরে কঠোর লড়াই গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বামপন্থী দলটি। মূলত বেসামরিক উৎপাদন খাতকে সামরিকীকরণের এই প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভক্সওয়াগনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা তাদের ওসনাব্রুক কারখানাটি লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য সরকার এবং তেল আবিবভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অরেলিয়াস ক্যাপিটালের নিকট হস্তান্তর করছে। এই চুক্তির আওতায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সামরিক প্রকল্পকে ওই কারখানার প্রথম বড় শিল্প উদ্যোগ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তবে ভক্সওয়াগন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানা বিক্রি করে একে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের উপযোগী করা ছাড়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা করার আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

ভক্সওয়াগনের এমন যুক্তি ও কর্মসংস্থানের অজুহাতকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে দ্য লেফট পার্টির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের সহসভাপতি থরবেন পিটার্স গণমাধ্যমকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ শ্রমিকদের অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একটি ভুয়া বিকল্পের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে যেখানে তাদের বেকারত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হচ্ছে। এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত দলগতভাবে কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সার্বিক বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এই রাজনৈতিক দল।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রদর্শনের দাবি জানিয়ে থরবেন পিটার্স আরও বলেছেন যে, তারা কেবল অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হবেন না, বরং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বেসামরিক শিল্পনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চান। একটি উপযুক্ত ও কল্যাণমুখী শিল্পনীতি সবসময় টেকসই বেসামরিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে এবং কোনো দেশের শান্তি বা স্থিতিশীলতাকে কখনই পরবর্তী অস্ত্র অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে না। ফলে এই বিতর্কিত উদ্যোগের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন আগামী দিনে আরও জোরালো রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন