দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান পরিবহন সংস্থাটির ওই ফ্লাইটে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উড্ডয়নের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানটির বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা থাকলেও মাঝ আকাশে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। জর্ডানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় ফ্লাইটটির ভেতর থেকে জরুরি ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল পাঠানো হয় যা পরবর্তীতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। প্রাথমিক বিভ্রান্তির কারণে বিমানটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে দিক পরিবর্তন করে এবং সেখানেই নিরাপদে অবতরণ করে।
তদন্তে পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে যে এই আকস্মিক সংকটের মূল কারণ কোনো বহিরাগত হামলা বা ষড়যন্ত্র ছিল না বরং বিমানের ককপিটের ভেতরেই দুই পাইলট নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি অবস্থার কোড পাঠালেও পরবর্তীতে এমন একটি ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল সক্রিয় করে যা সরাসরি বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নির্দেশ করে। এই বিশেষ কোডের কারণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এটিকে সম্ভাব্য হাইজ্যাকিং হিসেবে ধরে নেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির বিমানবাহিনী থেকে যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাইলটদের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ স্থাপন না করায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং সামরিক মহলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
পরিস্থিতির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ইসরায়েলের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব অবিলম্বে নিরাপত্তা বৈঠকে বসেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই আকস্মিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বিমানবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। আকাশে তখন কী ঘটছে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থাকায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছিল যাতে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা যায়।
পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হলে জানা যায় যে পাইলটদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা হুমকি জড়িত ছিল না। সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের পর বিমানটি কিছুটা নিচু উচ্চতায় উড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের বাইরে অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিনির্ধারকরা এই ঘটনার পর পাইলটদের পেশাদারিত্ব এবং ককপিটের ভেতরের শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই ফ্লাইটটি মাটিতে নেমে আসায় সব মহলে স্বস্তি ফিরে আসে।