ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের লক্ষ্ণৌ শহরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে এক মুসলিম কিশোরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে ওই কিশোর এবং তার মামার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি লক্ষ্ণৌর চক এলাকার বাদি কালী মন্দির মহল্লায় এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রাতে ওই এলাকায় একটি ধর্মীয় জাগরণ বা ভজন সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন এক কিশোর দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল। পথিমধ্যে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে থামিয়ে ধূমপানের সামগ্রী আনার নির্দেশ দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালায়। কিশোরটি সেই স্লোগান উচ্চারণ করতে অস্বীকৃতি জানালে যুবকরা তার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে।
আহত কিশোরের মামা মোহাম্মদ সুফিয়ান সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিশোরটিকে লোহার বালা দিয়ে আঘাত করা হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে সে কোনোমতে দৌড়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে হামলাকারীরা ক্ষান্ত না হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। বাড়ির বারান্দা থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সময় পাথরের আঘাতে কিশোরের এক বোনও আহত হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে খবর পেয়ে সুফিয়ান দ্রুত বাড়িতে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকেও ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে প্রহার করে।
এই সহিংসতার ঘটনায় সুফিয়ান ও তার ভাগনে উভয়েই গুরুতর আঘাত পান এবং তাদের মাথায় মারাত্মক জখম হয়। সুফিয়ানের মাথায় অস্ত্রোপচার করে বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী দাঙ্গা সৃষ্টি, শারীরিক আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে কয়েকজনকে এজাহারনামীয় এবং আরও কয়েকশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।