নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় মানসুর মোল্যা নামের এক কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কদমতলা গ্রামে রাতের বেলা ঘটে যাওয়া এই সহিংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মানসুর মোল্যা ওই গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। এই হামলায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে মাদক সেবন নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার বিরোধ চলছিল। এর আগে পেড়লী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযুক্ত হাসিব দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকাসক্ত কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের ওই বিরোধ এবং হাতাহাতির জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার রাতে কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড়ে অভিযুক্ত হাসিবকে দেখতে পেয়ে মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলাম আগের দিনের মারধরের কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসিব ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উভয়ের ওপর হামলা চালান। তিনি অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই মানসুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত হাসিব একজন বেপরোয়া মাদকসেবী এবং তাকে নিষেধ করার কারণেই সে অতীতে তাকেও লাঞ্ছিত করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ নিরীহ কৃষক মানসুরকে নিজের জীবন হারাতে হলো। নিহতের স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।