রাজনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিকট ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। সম্প্রতি নগরের অশ্বিনীকুমার হল চত্বরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি উত্থাপন করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য দুলাল মল্লিক। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এবং অবিলম্বে বন্দর ইজারার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
সমাবেশ চলাকালে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বাসদ নেতৃবৃন্দ দাবি করেন যে, বিগত দিনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতর্কিত হামলায় বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তীসহ অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বক্তারা এই ন্যাক্কারজনক হামলার কঠোর বিচার দাবি করে বলেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পুলিশি বাধা ও দমনপীড়ন চালিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।
আলোচনায় বক্তারা বলেন যে, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বিশাল একটি অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এর মধ্যে নিউমুরিং টার্মিনালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে এই টার্মিনাল থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই স্পর্শকাতর ও লাভজনক টার্মিনাল কোনোভাবেই বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়া উচিত নয় বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে নির্দিষ্ট দেশের নৌবাহিনীর কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই ইজারার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে। বন্দর এলাকায় বিদেশি সামরিক জাহাজের সম্ভাব্য উপস্থিতি দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন। এই দেশবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে দেশবাসীকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয় যা নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাপ্ত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং বন্দর রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন আয়োজকরা।