জাতীয় ডেস্ক: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর চরম জনবল সংকটের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয় যে, এই দপ্তরের মোট ৬৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৬০টি পদই শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে প্রায় ৯৪ শতাংশ পদই ফাঁকা পড়ে আছে, যা একটি বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য বড় বাধা।
নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রথম ডিএনএ পরীক্ষাগার চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কার্যক্রম আরও প্রসারিত করতে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠিত হয়। বর্তমানে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজে কেন্দ্রীয় জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের অন্যান্য সাতটি বিভাগে স্ক্রিনিং ল্যাব রয়েছে যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পেশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোতে অন্য দপ্তর থেকে লোক এনে কোনোমতে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের মতো প্রায় ডজনখানেক বিশেষায়িত পদ বছরের পর বছর ধরে খালি পড়ে আছে। নিজস্ব স্থায়ী অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবের পাশাপাশি জনবলের এই তীব্র ঘাটতিকে অধিদপ্তরের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জনবল সংকটের নেপথ্যে থাকা কারণ হিসেবে জানা গেছে, অতীতে একটি প্রকল্পে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে রিট করেছিলেন এবং আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বর্তমানে সেই রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩৪ জন বিশেষায়িত কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই আইনি জটিলতা ও নিয়োগ সম্পন্ন হলে পদসংকটের একটি বড় অংশ হয়তো দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বৈঠকে ল্যাবরেটরির এমন ভঙ্গুর দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। অপরাধ তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা বলেন, অপরাধীরা প্রমাণ লোপের চেষ্টা করলেও বৈজ্ঞানিক এই পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধীকে পাকড়াও করা সম্ভব। তাই জনবল সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরের বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।