লগইন
লগইন

ভাষার চেনা ছক ভেঙেছেন অ্যান কার্সন

ডেস্ক রিপোর্ট: কানাডার প্রথিতযশা লেখক ও গবেষক অ্যান কারসন গত চার দশকের বেশি সময় ধরে সাহিত্যের গতানুগতিক ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। কবিতা রচনা, কাব্যিক অনুবাদ, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে গভীর গবেষণা, প্রবন্ধ লিখন এবং মঞ্চ পারফরম্যান্সের মতো বহুমুখী কাজের মাধ্যমে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর এই বর্ণাঢ্য সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর হাতে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সাহিত্যজগতের এই বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে নির্দিষ্ট কোনো একটি পরিচয়ে আবদ্ধ করা অসম্ভব, কারণ তিনি সর্বদা প্রথাগত সীমানা ছাড়িয়ে স্বাধীনভাবে লিখে চলেছেন।

তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা ও সৃজনশীল কল্পনার অপূর্ব এক সমন্বয়। কারসন বারবার প্রমাণ করেছেন যে গভীর পড়াশোনা এবং সৃজনশীল লেখালেখি একে অপরের পরিপূরক, যা একই সঙ্গে সাহিত্য ও শিল্পের রসাস্বাদন করায়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ইতিহাস, স্যাফো বা সফোক্লিসের মতো ক্লাসিক লেখকদের ভাবনা এবং মানবজীবনের শাশ্বত অনুভূতিগুলোকে তিনি আজকের আধুনিক সময়ের সঙ্গে সুনিপুণভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিশীল পঙ্‌ক্তিমমালায় প্রেম, শোক, একাকিত্ব ও মৃত্যুর মতো চিরন্তন বিষয়গুলো নতুন রূপ লাভ করে।

প্রচলিত বইয়ের প্রথাগত বিন্যাস বা কাঠামোর তোয়াক্কা না করে তিনি কোলাজ, খণ্ডিত বাক্য এবং নানা উদ্ধৃতির এক ব্যতিক্রমী শৈলী তৈরি করেছেন। ইরোস দ্য বিটারসুইট, অটোবায়োগ্রাফি অব রেড কিংবা দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ডের মতো বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন মানবজীবনের নানা শূন্যতা ও দূরত্ব। ভাষা, স্মৃতি এবং না-পাওয়ার বেদনাকে তিনি যেভাবে কলমের আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন, তা পাঠকদের মনস্তাত্ত্বিক জগতে গভীর দাগ কাটে। তাঁর প্রতিটি বইয়ে বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনা উভয় ক্ষেত্রেই এক দারুণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা লক্ষ্য করা যায়।

বর্তমান প্রজন্মের তরুণ লেখক ও গবেষকদের ওপর তাঁর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং প্রেরণাদায়ক। সাহিত্য সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে অনুবাদ ও সৃজনশীল লেখার সীমানা এক সুতোয় বাঁধার পথ দেখিয়েছেন তিনি। কারসনের সাহিত্য আমাদের শেখায় যে সব প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়া সাহিত্যের কাজ নয়, বরং এমন কিছু চিন্তার খোরাক তৈরি করা যা পাঠককে দীর্ঘ সময় ধরে ভাবতে বাধ্য করে। চিন্তা এবং অনুভূতির মেলবন্ধনে গড়া তাঁর এই সমৃদ্ধ সাহিত্যজগৎ বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রকে আরও বেশি প্রশস্ত ও বর্ণিল করেছে।

মন্তব্য করুন