যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর কার্যক্রমে হামলার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের মদদ থাকার বিষয়টি পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছে। মূলত মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এর আগে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সেই দাবির পক্ষেই জোরালো সমর্থন প্রকাশ পেল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে আটকের মধ্য দিয়ে। আটকদের বয়স তেইশ থেকে পঁচিশ বছরের মধ্যে এবং ঘটনার পর তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানগাড়ি জব্দ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তল্লাশি চালিয়ে গাড়িগুলোতে কোনো বিস্ফোরকদ্রব্য পাওয়া না যাওয়ায় তাদের কিছু কঠোর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনের এই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তা আমলে না নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিচক্ষণতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে, সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পেয়ে গেছে, বরং তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এই পুরো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে ব্রিটিশ সরকার। সঠিক সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে এই হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সব গোপন তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য টাইমসের যৌথ প্রতিবেদনে এই ঘটনার আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে অভিযুক্তদের মধ্য থেকেই কেউ একজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেছিল। তাছাড়া স্থানীয় এক নারী মুখোশধারী কিছু লোক ও সন্দেহজনক ভ্যান দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। কাউন্টার টেররিজম পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লরেন্স টেলর নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক না মিললেও প্রচুর পরিমাণে পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এবং এই অন্তর্ঘাতী পরিকল্পনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে কাতারভিত্তিক বা পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলার ষড়যন্ত্রের পেছনে তেহরানের হাত থাকার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।